লাশ চোর বাপ্পি জানাজা শেষে রাত হলেই চুরি করত লাশ

এলাকায় মানুষ মারা গেলেই যেন খুশির শেষ নেই বাপ্পির মনের আনন্দে জানাজায় যেতে আগেভাগ । জানাজা শেষে মুচকি হেসে বাসায় ফিরতো , আর অপেক্ষা করতো রাত হবে কখন।



স্থানীয়রা জানান তার এলাকায় কোনো মানুষ মরলেই মনে মনে খুশি হতো বাপ্পি। তাদের জানাজাতেও অংশ নিতো সে মনের আনন্দে। জানাজা শেষে মুচকি হেসে বাসায় ফিরে অপেক্ষা করত রাত হওয়ার। আর রাত হলেই রাতের আঁধারেই নতুন কবরের লাশ তুলে নিজের বাসায় নিয়ে আসতো সে। এরপর লাশকে ভালো ভাবে কেমিক্যাল মিশিয়ে ঘুমাতে পরত। ময়মনসিংহের বাপ্পির সম্পর্কে এমনই ভয়ংকর তথ্য দিয়েছে স্থানীয়রা  ।

বাপ্পি ময়মনসিংহ নগরীর আরকে মিশন রোড এলাকায়
আশানীড় নামের একটি  ৩ তলা ভবনের ২য় তলায় থাকতো। বাপ্পি নগরীর কালিবাড়ি কবরখানা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।


একদিন রাত ২টার দিকে বাপ্পির বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। বাসায় তল্লাশি চালানোর সময় বস্তা আর কার্টন ভর্তি মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোর দেখে আঁতকে ওঠেন পুলিশেরা।

এই অভিযানে থাকা কোতোয়ালি মডেল থানার ৩ নম্বর ফাঁড়ির এসআই রাশেদুল ইসলাম বলেন-, বস্তা ও কার্টন ভর্তি  করা মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গের দেখে আমরা অবাক হয়ে যাই। কার্টন থেকে একে একে বের হয় ১২টি মাথার খুলি ও দুই  বস্তা মত মানষের হাড়। তার সঙ্গে পাওয়া যায় এক ধরনের বিশেষ কেমিক্যাল। যা দিয়ে মানবদেহ দ্রুত পচানো ও  মানুষের কঙ্কাল প্রক্রিয়াজাত করা হতো। এমন ঘটনায় রীতিমতো হতবাক এলাকাবাসী ও আমরা।

পরে ২১ ফেব্রুয়ারী ২১ তারিখ রোববার বিকেলে নগরীর আরকে মিশন রোড এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে। আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবক জানান, বাপ্পির বাসার দোতলার বারান্দা পুরোটাই একটা পর্দা দিয়ে সারাক্ষন ঢাকা থাকতো। তার বাসার জানালাও কখনো খোলা থাকতে দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে কিছুটা সন্দেহ হলেও ভাবতাম তার স্ত্রী হয়তো পর্দাশীল। তাই সে বিষয়ে আমরা খুব একটা মাথা ঘামাতাম না।


একইদিনে আবুল কালাম নামে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, বাপ্পিকে ঘরের বাইরে খুব একটা বের হতেও দেখা যায় না। তবে বাপ্পি অনেক রাত জাগতো। রাত ৩টা বা ৪টা পর্যন্ত তার বাসার লাইট জ্বালানো দেখা যেত। ভেতরে এত কিছু হতো তা আমাদের ধারণা করতে পারি নি।


কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, বাপ্পি অনেকদিন ধরে কঙ্কাল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও সে একবার কঙ্কালসহ গ্রেফতার হয়েছিল। ওই মামলায় জেলও খেটেছে বাপ্পি । কিন্তু এরপরও এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। কঙ্কাল চুরির সঙ্গে বাপ্পিসহ বেশ কয়েক সদস্যের একটি চক্র রয়েছে। কবর থেকে লাশগুলো তুলে কেমিক্যালের মাধ্যেম প্রক্রিয়াজাত করার পরে এসব কঙ্কাল দেশ-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হতো।

আরও পড়ুন-  আঙুর ও কিসমিসের মধ্যে স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?


0 Response to "লাশ চোর বাপ্পি জানাজা শেষে রাত হলেই চুরি করত লাশ"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel